বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

সাধারণ আনসার প্রশিক্ষণ প্রত্যাশিদের জানার জন্য অগুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।




 ♥♥♥♥ মোঃআবুল কালাম আজাদ♥♥♥♥

      সাধারণ আনসার প্রশিক্ষণার্থির যোগ্যতা যোগ্যতা,
বাছাইয়ের স্থান তারিখ সময় সম্পর্কে জানতে খবরের
কাগজটি সংগ্রহ করুন। যাদের কাছে খবরের কাগজ
পৌছাবেনা তাদের সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে
ওয়েবসাইটে এবং ফেসবুকে পেজ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত
হবে। https://www.facebook.com/bdansarbahini/
সাধারণ আনসার প্রশিক্ষণ প্রত্যাশিদের জানার জন্য
অগুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যঃ
১. সাধারণ আনসার প্রশিক্ষণার্থি বাছাই স্থায়ী
কোন সরকারী চাকুরী নয়। যারা উচ্চ শিক্ষিত এবং
স্থায়ী সরকারী চাকুরী খুঁজছেন তাদের এখানে
আবেদন করার দরকার নেই।
২. এ প্রশিক্ষণ তাদের জন্য যাদের স্থায়ী সরকারী
চাকুরিতে আবেদন করার শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই।
৩. আবেদনকারীদের বাছাই করা হবে দুটিধাপে।
প্রাথমিক বাছাই শারিরিক যোগ্যতার ভিত্তিতে।
দ্বিতীয়ধাপে হবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা।
৪. জেলা কোটা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক
প্রশিক্ষণার্থির চুড়ান্ত বাছাই হবে সফটওয়ারের
মাধ্যমে। সুতরাং কাউকে কোন অনুরোধ করে, সুপারিশ
করে কোন ফল হবে না।
৫. সঠিক আবেদন ফরম পুরণ ও দাখিল করা হলে
আবেদনের শেষ ধাপে অনলাইন সিস্টেমে
স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশপত্র তৈরি হবে। উক্ত প্রবেশ
পত্রে আবেদনকারীর আবেদন আইডি, ছবি, জেলা,
বিভাগ,ও বয়সের তথ্য থাকবে। প্রবেশ পত্রটি অবশ্য
অবশ্যই প্রিন্ট করে নিতে হবে। প্রবেশ পত্র ছাড়া
বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করা যাবে না কোন ক্ররমেই।
৬. আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক জাতীয়
পরিচয়পত্র নম্বর। ভূয়া নম্বর প্রমানিত হলে প্রশিক্ষণ
গ্রহন করেও লাভ হবে না। সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্র
ছাড়া স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করা যায় না।
৭. আবেদনে জন্ম নিবন্ধন নম্বর গ্রহণযোগ্য হবে না।
কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থলে জন্মনিবন্ধন নম্বর
দিয়ে আবেদন করলে বাছাই কালে বাদ পড়ে যাবে।
সফটওয়ারে এর ব্যবহার নেই।
৮. আবেদনকারীগণ নির্বাচিত হওয়ার অাকাংখায়
কাউকে টাকা পয়সা দিয়ে প্রতারিত হবেন না।
সফটওয়ার কোন সুপারিশ ও অনুরোধ গ্রহন করে না।
৯. ভিডিপি সদস্য ও অধিক উচ্চতা সম্পন্ন প্রার্থিগণ
সফটওয়ারে অগ্রাধিকার পাবেন। ভূল উচ্চতা
বাছাইকালে সংশোধন করা হবে।
১০. এবার কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী
রেঞ্জের অধীন জেলার প্রার্থিগণ আবেদন করতে
পারবেন।
আরও পরামর্শ থাকবে। এ পেইজের সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ। সবার জন্য শুভকামনা।https://www.facebook.com/bdansarbahini/

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না বাড়াতে হবে চিকিৎসাসেবাও।


          ♥ ♥♥♥ মোঃআবুল কালাম আজাদ। ♥♥♥♥♥

★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★
 স্বাস্থ্য অধিদফতর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
(চমেক) হাসপাতালে আরো ৫০০ শয্যা বাড়ানোর
সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংবাদ চট্টগ্রামে বসবাসরত
নাগরিকদের জন্য বড় সুসংবাদ। গতকাল দৈনিক
আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
‘বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও বর্ধিতকরণের
মাধ্যমে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ’
শীর্ষক এক প্রকল্পের আওতায় শয্যা সংখ্যা
বাড়ানোর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য
অধিদফতর। চমেক হাসপাতালসহ দেশের পুরাতন মোট
৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ প্রকল্পের
আওতায় রয়েছে। বাকি চারটি হাসপাতালের মধ্যে
রয়েছে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল, বরিশালের শেরে বাংলা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজশাহী ও
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এ প্রকল্পের
আওতায় অতিরিক্ত ৫০০ শয্যা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে
হাসপাতালগুলোর কাছে তথ্য–উপাত্ত চেয়ে গত ৮
ফেব্রুয়ারি চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
সরকারের এ প্রয়াসের জন্য সাধুবাদ জানাতেই হয়।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে বাংলাদেশের অগ্রগতি আজ
বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত। দেশে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার
হ্রাসসহ সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে
বাংলাদেশের সাফল্য অনেক। তৃণমূল পর্যায়ে
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ
করেছে সরকার। দেশে আজ আধুনিক মানের
চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে।
টেলিমেডিসিনসহ আরও নতুন নতুন আবিষ্কারের
মাধ্যমে চিকিৎসাবিদ্যায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন
এসেছে। সকল ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল
মিলিয়ে বিশেষায়িত শিক্ষার মাধ্যমে
বাংলাদেশে সকল রোগ নিরাময়ে দেশের চিকিৎসা
বিজ্ঞানকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের প্রচেষ্টা
অব্যাহত রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
সেক্টরের উন্নয়ন আজ বিশ্বের অনেক দেশের জন্য
মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা
চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করে
যাচ্ছেন। চিকিৎসা সেক্টরের উন্নয়নের বিষয়টি আজ
বিদেশীদের মুখেই প্রকাশ পাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেডিকেল জার্নাল ল্যান্সেটে
প্রকাশিত এক গবেষণার মতে, স্বাস্থ্যসেবাখাতে
বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ভারত। এতে বলা হয়,
বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে
ভারতের অবস্থান ১৫৪তম। অথচ বাংলাদেশ ৫২তম
অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের
আর্থ–সামাজিক উন্নয়নের পরেও স্বাস্থ্যসেবায়
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারত ব্যর্থ হয়েছে। গত ২৫
বছরে আশানুরূপ স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেনি
দেশটি। চীন, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের চেয়েও
ভারতের অবস্থান নিচের দিকে।
তবে সার্বিকভাবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে
গেলেও চট্টগ্রামের চিকিৎসাব্যবস্থায় রয়েছে বড়
সংকট। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বছরের পর বছর
ধরে চলছে এই সংকট। লোকবল সংকট,
পেশাদারিত্বের অভাব, ডাক্তার ও নার্সের সংকট
এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে না ওঠায়
স্বাস্থ্যসেবায় বিরাজ করছে করুণ–দশা। উপজেলা
স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কথা বাদ দিলেও চট্টগ্রাম
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথা লিখতে গেলে
বলা যায়, এখানে আসা রোগীরা চিকিৎসায়
ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
হাসপাতালে চিকিৎসক থাকলেও নেই উপযুক্ত
চিকিৎসা সরঞ্জাম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে
অ্যাম্বুলেন্স সংকট। দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে
পড়ে রয়েছে চিকিৎসাকাজে ব্যবহূত যন্ত্রপাতি।
ফলে রোগীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
মাত্র ৫০০ শয্যার অবকাঠামোতে নির্মিত চট্টগ্রাম
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান শয্যা
সংখ্যা ১ হাজার ৩১৩। প্রশাসনিক আদেশে ৩/৪ বছর
আগে এই শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি
জনবল। অধিকন্তু ১ হাজার ৩১৩ শয্যার বিপরীতে
প্রতিনিয়ত প্রায় ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকছে
গরিবের হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত এই
হাসপাতালে। তবে এই তিন হাজার রোগীর সেবা
চলছে সে–ই ৫০০ শয্যার জনবলেই। তাছাড়া ৪২টি
ওয়ার্ড বিশিষ্ট এই হাসপাতালে স্থান সংকটও চরম
পর্যায়ে। শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে, বারান্দা, করিডোর
এমনকি সিঁড়িতেও রাখতে হচ্ছে রোগীকে। জনবল ও
স্থানের এমন চরম সংকট নিয়ে এতদঞ্চলের বিশাল
সংখ্যক রোগীর চাপ যেন আর নিতে পারছে না
হাসপাতালটি। সবমিলিয়ে গরিবের এ হাসপাতালটি
বর্তমানে রোগীর ভারে বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতি
হতে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে বিদ্যমান
হাসপাতালের জন্য ১ হাজার শয্যা ধারণ ক্ষমতার
নতুন একটি ভবন নির্মাণের পাশাপাশি নগরে
বিশেষায়িত আরো তিনটি হাসপাতালের প্রস্তাব
করে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তবে কেবল শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না,
চিকিৎসাসেবাও বাড়াতে হবে। হাসপাতালের
গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও জনবল বৃদ্ধি করে
চিকিৎসাসেবায় গতি আনতে হবে। রোগীরা যেন
হয়রানির শিকার না হয়, যেন ন্যায্য চিকিৎসা লাভ
করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

♥বিদ্রোহী♥-কাজী নজরুল ইসলাম

। বিদ্রোহী

-- কাজী্ নজরুল ইসলাম

কবিতা (বিদ্রোহী)
azadbd24 প্রকাশ করলেন -এ,কে,আজাদ)

বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!

বল বীর -
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!

বল বীর-
আমি চির উন্নত শির। 
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধুর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!

বল বীর-
চির-উন্নত মম শির! 
আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সমুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনান্দ।
আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি' ছমকি'
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি'
ফিং দিয়া দিই তিন দোল্‌;
আমি চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা',
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-অধীর।

বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির! 
আমি চির-দূরণ্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রানের পেয়ালা হর্দম্‌ হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ। 
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রানী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য;
আমি কৃষ্ণ-কণ্ঠ, মণ্থন-বিষ পিয়া ব্যাথা-বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
https://www.facebook.com/Azadbd24com-1617041165258840/

বল বীর-
চির- উন্নত মম শির! 
আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিশ,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ইশান-বিষানে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পানির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ-খোলা হাসি উল্লাস,-আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস
আমি মহা-প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত,-কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছ্বাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-উর্মির হিন্দোল দোল! 
আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দণ শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর!
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
চিত- চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখণ,
আমি চপল মেয়ের ভালবাসা, তা'র কাঁকন চুড়ির কন্ কন্।

আমি চির-শিশু, চির-কিশোর
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেনু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি,
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি।
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! 
আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোর্‌রাক্‌ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে! 
আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উরে চলি জোর তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারি ভূবনে সহসা সঞ্চারী' ভুমিকম্প। 

ধরি বাসুকির ফনা জাপটি-
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি'।
আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুম্-ঘুম্,
ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম্
মম বাঁশরীর তানে পাশরি
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠে’ যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!

আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া! 
আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরণীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল-ধ্বংস-ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ঞু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!
আমি ছিন্নমন্তা চণ্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি! 
আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজয় অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ পাতাল-মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!
হাবিয়া দোজখ-সপ্তম নরক, এই নরকই ভীষনতম। 

আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি' ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে, 
মহা- বিদ্রোহী রণ-কাল্ত,
আমি সেইদিন সব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দণ-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না

অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত। 
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন;
আমি স্রষ্টা-সুদন; শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন। 

আমি চির-বিদ্রোহী-বীর-
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির! https://www.facebook.com/azadbd24com

রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি মাস শুরু।


রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি মাস শুরু

বৃহস্পতিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
24
স্টাব/এ,কে,আজাদ
আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ণ্ডরক্তে রাঙানো সেই ফেব্রুয়ারি মাস– ভাষা আন্দোলনের মাস শুরু আজ থেকে। এ দিন থেকে ধ্বনিত হবে সেই অমর সঙ্গীতের অমিয় বাণী। বাঙালি জাতি পুরো মাস জুড়ে ভালোবাসা জানাবে ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসনশোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালামজব্বারশফিকবরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা এবং আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেরণা। তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরে নয় মাস পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। খবর বাসসের।

বস্তুত ফেব্রুয়ারি মাস একদিকে শোকাবহ হলেও অন্যদিকে আছে এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি ভাষার জন্য এ মাসে জীবন দিয়েছিল। আর তাই দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃত। একুশের মাসের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ মাসব্যাপী বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ থেকে। বাংলা একাডেমিতে বিকেল তিনটায় এই মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিকরাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ মাসে আয়োজন করেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।
দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা’ শেহ্মাগানে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনের কবিতা উৎসব। প্রতি বছরের মত এবারও উৎসব হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে। সকালে উৎসবের উদ্বোধন করবেন কবি আসাদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

হলুদ সাংবাদিরা শুধু চামচামি করে।


স্টাব।https://m.facebook.com/home.php
এ,কে,আজাদ।

বিষয়টা আমার জন্যই বিব্রতকর।আসলে
সাংবাদিকতার অনেক ধরন আছে। কোন সাংবাদিক?
কেমন সাংবাদিক ?ধরলাম পত্রিকার সাংবাদিক।
মানে স্টাফ রিপোর্টার। একজন ভালো সাংবাদিক
হতে হলে যেসব যোগ্যতা লাগবে- ১. কমন সেন্স ২.
লেখালেখির যোগ্যতা ৩. ভাষাগত দক্ষতা ৪. চাপ
সহ্য করার ক্ষমতা ৫. সবার সঙ্গে ভাব জমানোর
ক্ষমতা ইত্যাদি।আর পড়াশোনা অন্তত গ্রাজুয়েট।
বাকি সাংবাদিক দের প্রেস ক্লাবে নিয়ে এসে
কানে ধরে দুপুরে হাটু গেরে বসাতে ইচ্ছা জাগে মনে
। কারন তারাই সাংবাদিক দের সন্মান নষ্টো করে ।
যাদের মাঝে সামান্য তম শিক্ষা নাই । তারা
সাংবাদিক এর কার্ড পায় কেমনে ? ইন্টারের পর
সাংবাদিকতায় ভর্তি হতে পারেন। যদি সত্যি সত্যি
সাংবাদিক হতে চান । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
সাংবাদিকতা বিভাগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রাইভেট
বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে, যেমন ইউনিভার্সিটি অব
লিবারেল আর্টস। টিভি রিপোর্টিং-এর জন্য রয়েছে
বেশ কিছু কোর্স। আমি জানতে চাই যারা নাম্বার
বিহিন মটর সাইকেলে সাংবাদিক লেখে ঘুরে
বেড়ায় তারা আসলে পেশা টাকে কি ভাবে
নিয়েছে ?? এক কথায় বলা যায় সুবিধা ভোগে
সাংবাদিক হয়েছে । প্রথম শর্তে কোন কথা নাই ।
তার মটর সাইকেল কিংবা গাড়ী জ্বালিয়ে দিতে
পারলে শান্তি পেত বাংলার পাখী বাবুই । তবে
কোর্স বা ডিগ্রি আপনাকে থিওরি বা
প্র্যাকটিকাল যা শেখাবে তা ভাল সাংবাদিকতার
জন্য ইনাফ না। বিভিন্ন বই এবং আর্টিকেল পড়তে
হবে লেখার ধরণ শেখার জন্য। পত্রিকাগুলো নিয়মিত
ঘাটলে সংবাদের গুরুত্ত্ব এবং ধরণ সম্পর্কেও
ক্লিয়ার ধারণা হবে। টিভির জন্য প্রেজেনটেশন
স্কিল এর প্র্যাকটিস করতে হবে। আরো জানতে
চাইলে কোর্স করতে পারেন এমআরটিতে। বেগম
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যায় সহ বেশ কিছু শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক এর উপর কোর্স খুলা হয়েছে
। যা বিগত সময় ছিলো বটে । দীর্ঘদিন ধরে
সাংবাদিক দের সঙ্গে জড়িত থেকে আমি নিজে
যখন কিছু সাংবাদিকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখে
সমালোচনামূখর হই, তখন আমার সহকর্মীরাই আমার
দিকে তেড়ে আসেন। আমাদের এই দেশে সবকিছু
গোষ্ঠিবদ্ধভাবে বিবেচনার এক সংস্কৃতি আমরা চালু
করেছি। যেখানে যা-ই ঘটুক না কেন আমরা
সবগুলোকে নিজেদের দলসূত্রে বেঁধে ফেলি। এর মাঝ
দিয়ে হয়তো আক্রান্ত হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষাী
পাওয়া যায়, কিন্তু নিজেদের দায়টুকুর দিকে নজর
দেয়া হয়ে উঠে না।যখন যেখানে খুশি, যেভাবে
প্রয়োজন সেভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার অদ্ভুত
একধরণের গুণ থাকে সাংবাদিকদের। কিন্তু
রিপোটার দের সেটা থাকে না । সব সাংবাদিক
নির্যাতনই অপরাধীদের কাজ নয়, কখনো কখনো
আমাদের পেশার প্রতি অন্য মানুষের দীর্ঘদিনের
চাপা ক্ষোভ ও হতাশা থেকেও এটি হতে পারে।
আমরা যদি একে বারংবার ‘সাংবাদিক নির্যাতন’
বলে এড়িয়ে যাই, তাহলে এরকম ঘটনা বন্ধ হবে না।
আমাদেরকে খুঁজে দেখতে হবে সাংবাদিকদের
সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনোভাব আসলে কী? নিজ
অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এই মনোভাব খুব
আমোদদায়ক নয়। একশ্রেনীর ‘তথাকথিত
সাংবাদিকদের’ কর্মকা-ে গোটা দেশের মানুষ
ধীরে ধীরে এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছে।
সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর সংবাদ
মাধ্যমগুলোর বিভীষিকাময় আচরণ দেখে আমি
নিজেই স্তম্ভিত। হুমায়ূন-শাওন পর্ব শেষ করে এখন
গুলতেকিনকে নিয়ে শুরু হচ্ছে। হুমায়ূনের সন্তানদের
ফেসবুক থেকে ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে অবলীলায়
ছাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। হুমায়ূনের চিকিৎসা নিয়ে
মনের মাধুরী মিশিয়ে রিপোর্ট করা হচ্ছে। আমাদের
রুচি বিকৃতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাঁর একটি
উদাহরণ দেই। টিভিতে দেখলাম, হুমায়ূনের দাফন
শেষে শাওনকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, ‘আপনার শ্বাশুড়ি
কেন দাফনে এলেন না? কবরের জায়গা নিয়ে
জটিলতায় কি উনি রাগ করেছেন? নুহাশ পল্লীর
মালিকানা এখন কার? এটা কার থাকবে?’ ইত্যাদি।
সদ্য স্বামীহারা একজন নারীকে কী প্রশ্ন করা যায়,
কতটুকু প্রশ্ন করা যায় এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা না
নিয়ে একদল মানুষকে আমরা সাংবাদিক পরিচয়
দিয়ে এই সমাজে ছেড়ে দিয়েছি, এটা কতটুকু
যৌক্তিক হয়েছে সেটা ভেবে দেখার প্রয়োজন
আছে। আমার মনে আছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর
মাসে গনতন্ত্রী পার্টির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের
বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিকা- ঘটলে তাঁর একমাত্র
তমোহর ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং গুরুতর
আহত নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শরীরের একটা বড় অংশ পুড়ে যাওয়া মুমুর্ষ নুরুল ইসলাম
তখনও জানতেন না যে তাঁর সন্তান মারা গেছেন। নুরুল
ইসলামের মুখের সামনে মাইক্রোফোন নিয়ে
আমাদের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিল, ‘আপনার
সন্তান মারা যাওয়ায় আপনার অনুভূতি কী?’ হায়, কী
নিষ্ঠুর হতে পারে কিছু মানুষ! এগুলো কি বিচ্ছিন্ন
ঘটনা? অনেকেই হয়তো তা-ই বলবেন, কিন্তু বিচ্ছিন্ন
ঘটনার প্রকোপ যখন অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন সেটা
এড়িয়ে যাওয়ার আর সুযোগ থাকছে না। এই সমস্যার
বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরেদরে সাংবাদিক
পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ। এই সুযোগ নিয়ন্ত্রন করতে
হবে এবং এই নিয়ন্ত্রন আরোপে প্রকৃত
সাংবাদিকদের সাহসী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
মিডিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
প্রতিভাবান তরুণরা এই সেক্টরে আসছেন না বলে
অনেক সময়ই প্রায় অযোগ্য কিছু মানুষকে দিয়ে কাজ
চালানো শুরু হয়েছে। এদের কোনো প্রশিক্ষনের
ব্যবস্থা করেনি অধিকাংশ চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রশিক্ষণ বিহীন, সাংবাদিকতা সম্পর্কে নূন্যতম
জ্ঞানবিহীন অদক্ষরা সদ্য শিং গজানো বাছুরের
মতো বুকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মত্তের মতো
আচরণ করছে। এরা রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙে,
সরকারি বেসরকারি অফিসে গিয়ে ধমক দিয়ে কাজ
করতে চায়। এর বাইরে আছে স্বঘোষিত
ধান্দাবাজদের ‘সাংবাদিক’ হয়ে ওঠা। পাড়া
মহল্লার সাময়িকী কি এক পাতার কিছু একটা
ছাপিয়েই কিছু লোক স্বঘোষিত সাংবাদিক হয়ে
পড়ছে। যেনতেন প্রকারে আন্ডারগ্রাউন্ড একটি
পত্রিকা বের করে চলছে ব্ল্যাকমেইলিং আর
চাঁদাবাজির উৎসব। এসব ‘সাংবাদিক’দের দায় নিতে
হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে। পাঠক কি জানেন,
ঢাকা শহরে ‘প্রাইভেট’ নাম দিয়ে যে হাজার হাজার
সিএনজি চালিত ধূষর অটোরিক্সাগুলো চলছে,
এগুলোর অনুমোদন নেয়া হয়েছে এসব ভূইফোঁড়
পত্রিকা আর সংবাদ সংস্থার নামে। ঢাকা শহরে
যতগুলো ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগানো
মাইক্রোবাস চলাচল করে, এর অধিকাংশই আসলে
রেন্ট-এ-কারের গাড়ি, এর সঙ্গে প্রকৃত
সাংবাদিকদের কোনো সম্পর্কই নেই। এখন কথা
হচ্ছে এসব সামলাবে কে? আমি এজন্য একটি
নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিধিমালা তৈরির
পক্ষে। সব পেশারই লাইসেন্স প্রদানকারী একটি
প্রতিষ্ঠান থাকে। আপনি এমনকি চিকিৎসা
বিজ্ঞানের সব বই পড়ে ঝালাপালা হয়ে গেলেও
চিকিৎসা শুরু করার আগে আপনাকে সনদ নিতে হবে।
এই সনদ গ্রহনের মাধ্যমে আপনি নূন্যতম নিয়মনীতি ও
পেশাগত সততার প্রতি অঙ্গীকার করতে হয়। আপনি
আইন পাশ করলেও সরাসরি বিচার কার্যে অংশ নিতে
পারবেন না, এজন্য আপনাকে তালিকাভুক্ত ও
সনদধারী আইনজীবি হতে হবে। একাউন্টেন্ট হতে
হলেও আপনাকে শুধু হিসাববিজ্ঞান জানলে চলবে
না, সংশ্লিষ্ঠ পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সনদ নিতে হবে।
এসব সনদের কারণে একজন পেশাজীবি তাঁর নিজের
পেশার প্রতি সৎ থাকার অঙ্গীকার করেন। সনদ
থাকার কারণে আমরা সাধারণ মানুষরা বুঝতে পারি
যে এই চিকিৎসক কি আইনজীবি আসলেই আমাকে
সেবা দেয়ার যোগ্যতা অর্জণ করেছেন কী না।
সেবা প্রদানে গুরুতর কোনো অনৈতিকতা থাকলে
আমরা বিচারপ্রার্থী হতে পারি এবং দায়ী ব্যক্তির
সনদ বাতিল করে তাঁকে পেশা থেকে সরিয়ে দেয়ার
ব্যবস্থা আছে। তাই এই ধরনের পেশাদারিত্বের
নিবন্ধন ও সনদ একজন মানুষকে নিজ পেশায়
দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করে। সাংবাদিকতাও একটি
স্পর্শকাতর পেশা। যে কারো হাতে যেভাবে
ছুরিকাঁিচ তুলে দিয়ে অপারেশনের সার্জন বানিয়ে
দেয়া গ্রহনযোগ্য হয় না, একই ভাবে যে কারো হাতে
কলম-ক্যামেরা-বুম তুলে দিয়ে তাঁকে সংবাদ সংগ্রহ
ও প্রচারের দায়িত্ব দেওয়াটাও গ্রহণযোগ্য হওয়া
উচিত নয়। আমি আশা করি সাংবাদিকদের
পেশাদারিত্বের সনদ দেয়ার এখতিয়ার দিয়ে একটি
কর্তৃপক্ষ তৈরির ব্যাপারে মিডিয়া সংশ্লিষ্ঠ সকল
মহল গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। এরকম প্রতিষ্ঠানের
রূপরেখা কীভাবে হবে, সনদ পাওয়ার জন্য কোনো
প্রশিক্ষন, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্তাবলী কী
হবে এ ব্যাপারে দেশের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীদের
সহায়তায় একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান পাওয়া সম্ভব।
এই কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি
ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে এবং তাঁদেরকে
সেগুলো মেনে চলতে উৎসাহিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে
বাধ্যও করবে। অনেকেই হয়তো আমার এই প্রস্তাবকে
সাংবাদিক নিয়ন্ত্রনের মনোভাব হিসেবে দেখতে
চাইবেন। কিন্তু আমার মনে হয় বরং প্রকৃত
সাংবাদিকদেরই উচিত হবে এ বিষয়ে অগ্রনী ভুমিকা
নেয়া। আমাদের নিজেদের পেশার সুনাম রক্ষার
জন্যই সাংবাদিকতার বাগান থেকে আগাছা দূর
করার ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।

শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮

কেন বিমান মন্ত্রণালয় থেকে সরানো হলো মেননকে?

https://facebook.com/akakishadhin.akakishadhin.com


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে বুধবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। বুধবার দুপুরে মেননকে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়ার কথা ছড়িয়ে পড়লে সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকায় সবার মুখে মুখে ছিল বিষয়টি।
অনেকেই মন্ত্রীর সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে করছিলেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকেই মনে করছেন কার্গো রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ভিভিঅাইপি ফ্লাইটে নাট-বল্টু ঢিলা, এবং ফ্লাইটে নিরাপত্তা দিতে না পারার কারণে তাকে বিমানমন্ত্রীর চেয়ার হারাতে হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির ঘটনায় তদন্তে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করতে পারাও একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
তবে এসব বিষয়ে রাশেদ খান মেনন জাগো নিউজকে বলেন, আমি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালে কোনোরকম দুর্নীতি ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেইনি। সরকার যেখানে চাইবে সেখানেই আমাদের কাজ করতে হবে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনে যোগ দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিভিআইপি ওই ফ্লাইটে পূর্বনির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয় বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) থেকে। সরকারের সব সংস্থার উপস্থিতিতে খাবার তৈরি করে বিএফসিসির একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখা হয়। ফ্লাইটের দিন সকালে ফ্লাইটে খাবার ওঠানোর সময় সিকিউরিটি ট্যাগ ছাড়া দুটি স্যুপের ফ্লাস্ক দেখতে পায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। সঙ্গে সঙ্গে তারা ফ্লাস্ক দুটি বিএফসিসিতে ফেরত পাঠান।
দুই ফ্লাস্কের একটিতে চিকেন একং একটিতে ভেজিটেবল স্যুপ ছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয় বিমানে।
অনেকেই বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য পরীক্ষা করা খাবারের সঙ্গে কীভাবে নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়া দুটি ফ্লাস্ক ভিভিআইপি ফ্লাইটে পাঠনো হলো সে ব্যাপারে লোক দেখানো তদন্ত কমিটি করা হলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বুদাপেস্টগামী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণের ঘটনায় দেশ-বিদেশে তোলপাড় উঠেছিল। সেবারও ঘটেছে খাবার নিয়ে গাফিলতির ঘটনা।
ওই ঘটনায় ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের সহকারী ব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করলেও মন্ত্রণালয়ের তদন্তে নির্দোষ উল্লেখ হওয়ায় কোনো শাস্তি দেয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটে নিরাপত্তা না দিতে পারা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে জেলে থাকা ১৯ জন প্রকৌশলীকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন মন্ত্রণালয়েরই তদন্ত রিপোর্টের সূত্র ধরে

রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৭

এ,কে,আজাদ★ ‘উকিল বাপ’ বানানো কি বৈধ? সত্যিটা একবার দেখে নিন।








   
উকিল ও বাপ। বাংলা একাডেমি ‘উকিল’ শব্দের
অর্থ লিখেছে ১. আইন ব্যবসায়ী। ২. প্রতিনিধি,
মুখপাত্র। ৩. মুসলমানদের বিয়েতে যে ব্যক্তি
কনের সম্মতি নিয়ে বরকে জানায়। (বাংলা
একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান,
পৃষ্ঠা-১৪৭)। আর ‘বাপ’ শব্দের অর্থ বাবা, পিতা,
জন্মদাতা ও পিতৃস্থানীয় ব্যক্তি।
ইসলামে পবিত্র বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য
দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা সাক্ষী
উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এই সাক্ষীমণ্ডলীর
একজনকে দেশীয় পরিভাষায় বলা হয় ‘উকিল
বাপ’।
আমাদের দেশে এই ‘উকিল বাপ’ ও তাঁর আত্মীয়-
স্বজনের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের মতো আচরণ
করা হয়।
অবলীলায় তাঁদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়।
অথচ ‘উকিল বাপ’ সংস্কৃতি ইসলামসম্মত নয়।
কেননা যদি বিয়ের সাক্ষী ব্যক্তিরাই ‘উকিল
বাপ’ হয়, তাহলে দুজন সাক্ষীই তো ‘উকিল বাপ’
হওয়ার কথা। অথচ বিয়ের সাক্ষী একজনকে
পিতার আসনে বসানো হয় আর অন্যজনকে এই
বিশেষ বিশেষণ থেকে বঞ্চিত করা হয়।
তা ছাড়া পৃথিবীতে প্রকৃত বাবা একজনই, যার
ঔরসে সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। এর বাইরে
ইসলাম কয়েক ধরনের ব্যক্তিকে পিতৃস্থানীয়
হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এক. ‘দুধ পিতা’ অর্থাৎ কোনো শিশু যদি অন্য
কোনো নারীর দুধ পান করে, তাহলে সে নারীর
স্বামী উলিখিত শিশুর ‘দুধ পিতা’। এমন পিতার
সঙ্গে দুগ্ধপায়ী মেয়েশিশুর বিয়ে বৈধ নয়। তবে
তারা একে অন্যের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে
পারবে।
দুই. বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরেক ধরনের
পিতৃত্বের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দেশীয় পরিভাষায়
ওই পিতাকে বলা হয় ‘শ্বশুর’। ‘শ্বশুর’ স্বামীর
পিতা বা পিতৃস্থানীয় হওয়ার কারণে তাঁর সঙ্গে
স্থায়ীভাবে বিয়ে হারাম। স্বামী যদি কখনো
তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে
স্বামীর সঙ্গে আর দেখা করা যাবে না; কিন্তু
ওই শ্বশুর তখনো হারামই থেকে যাবেন। অর্থাৎ
তাঁর সঙ্গে বিয়ে বৈধ নয়। তাঁর সঙ্গে পিতার
মতো সর্বাবস্থায় দেখা দেওয়া যাবে।
তিন. দত্তক নেওয়া সন্তানের অভিভাবককেও
পিতার মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। এ বিষয়ে
ইসলামের বিধান হলো, দত্তক নেওয়া সন্তানের
লালনকারীদের সম্মানার্থে মা-বাবা ডাকা
বৈধ। একইভাবে তারাও সন্তানকে স্নেহ করে
ছেলে-মেয়ে ডাকতে পারবে। তবে এটা মনে
করার সুযোগ নেই যে পালক নেওয়ায় সন্তানের
আসল মা-বাবা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।
এখন লালনকারীই তার সব কিছু। এমন মনে করা
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি জাহেলি যুগের কুসংস্কার।
পবিত্র কোরআনে বিষয়টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
(তাফসিরে ইবনে কাসির : ৬/৩৩৭, আবু দাউদ,
হাদিস : ১৯৪০)।
লালন-পালনকারীর সঙ্গে পালিত সন্তান পর্দার
ক্ষেত্রেও পুরোপুরি ইসলামের বিধান রক্ষা করে
চলতে হবে। নিজ হাতে লালন-পালন করেছি বলে
পর্দার বিধান লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।
অর্থাৎ পালক নেওয়া শিশুটি ছেলে হলে
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাকে পালক নেওয়া
মায়ের সঙ্গে পর্দা করতে হবে। অন্যদিকে পালক
নেওয়া শিশুটি মেয়ে হলে তাকে পালক নেওয়া
বাবার সঙ্গে পর্দা রক্ষা করে চলতে হবে।
কেননা ইসলামী শরিয়ত মতে, দত্তকসংক্রান্ত
সম্পর্ক কখনো বংশীয় সম্পর্কে পরিণত হয় না।
এমনকি তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কও অন্য
সাধারণ মানুষের মতো বৈধ। (তুহফাতুল ফুকাহা :
২/১২৩)
উল্লিখিত কয়েক ধরনের পিতৃস্থানীয় ব্যক্তি
ছাড়া অন্যদের পিতা হিসেবে ইসলাম স্বীকৃতি
দেয়নি।
‘উকিল’ একটি মুসলিম পরিভাষা। বিশেষ
পদ্ধতিতে বিয়ে মুসলমানদের সংস্কৃতি।
কালক্রমে মুসলিম পরিভাষা ও সংস্কৃতির ভেতর
ইসলামবিরোধী ‘উকিল বাপ’ কালচার ঢুকে
পড়েছে। এ ‘উকিল বাপে’র সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ
বৈধ নয়। তাঁকে ‘বাবা’ ডাকারও কোনো কারণ
নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি
জেনেশুনে নিজের পিতাকে ছাড়া অন্য কাউকে
পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত
হারাম। ’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩২৬) ।
উকিল বাবা সাধারণত কনের মাহরাম কোনো
আত্মীয়-স্বজন হন না; বরং তিনি গাইরে
মাহরামই হয়ে থাকেন। তাই তাঁর সঙ্গে পর্দা করা
ইসলামের দৃষ্টিতে ফরজ। শুধু সামাজিক প্রচলনের
ওপর ভিত্তি করে একজন গাইরে মাহরাম
ব্যক্তিকে ‘উকিল বাপ’ বানিয়ে তাঁর সঙ্গে
মাহরাম আত্মীয়-স্বজনদের মতো দেখা-সাক্ষাৎ
করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
অনেক সময় দেখা যায়, মেয়ের কাছ থেকে
অনুমতি আনার সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত
থাকার জন্য উকিল বাবার সঙ্গে বর-কনে
উভয়পক্ষের দুজন সাক্ষী যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে
গাইরে মাহরাম কেউ মেয়ের কাছে অনুমতি
আনার জন্য তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে
পারবে না। বিয়ের আগে পাত্রীকে গাইরে
মাহরামদের মধ্যে শুধু পাত্রই শর্ত সাপেক্ষে
দেখতে পারবে। সে শর্তগুলো হলো :
এক. পাত্রী দেখার সময় পাত্রের পক্ষের কোনো
পুরুষ যেমন বাপ-ভাই, বন্ধুবান্ধব প্রমুখ কেউ
থাকতে পারবে না। তাদের পাত্রী দেখা সম্পূর্ণ
নিষিদ্ধ ও কবিরা গুনাহ।
দুই . পাত্র-পাত্রী একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতে
পারবে। কিন্তু একে অন্যকে স্পর্শ করতে পারবে
না।
তিন. পাত্রীর শুধু কবজি পর্যন্ত হাত, টাখনু
পর্যন্ত পা ও মুখমণ্ডল দেখা পাত্রের জন্য বৈধ। এ
ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ আবরণ ছাড়া
দেখতে পারবে না।
চার. নির্জনে পাত্র-পাত্রী একত্রিত হওয়া বৈধ
নয়। সুতরাং যেখানে পাত্রের জন্যই এত শর্ত
রয়েছে, সেখানে ‘উকিল বাবা’ পাত্রী দেখার
তো প্রশ্নই আসে না। এমনকি পাত্রের প্রকৃত
পিতার জন্যও বিয়ের আগে তাঁর হবু পুত্রবধূকে
দেখা বৈধ নয়। (সুরা নিসা, আয়াত : ২৩,
তাফসিরে মাজহারি : ২/২৫৪)

শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৭

স্বাধাীন আহম্মেদ ♥♥প্রথম দিনে মুখোমুখি সিলেট-ঢাকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক।

https://facebook.com/akakishadhin.akakishadhin.com
প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশ নিচ্ছে
সিলেটের মানুষের মালিকানাধীন কোন দল।
এবারের সিলেটের দলটির নাম সিলেট
সিক্সার্স। আর এবারই প্রথমবারের মত
সিলেটে আয়োজিত হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের
সবচাইতে রমরমা আসর বিপিএল। প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যের লিলভিুমি চা বাগান আর
পাহাড়ে ঘেরা সিলেটের আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ পর্দা উঠছে
এবারের বিপিএলের। স্বাগতিক সিলেট
সিক্সার্স এবং বিপিএলের বর্তমান
চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটসের মধ্যকার
ম্যাচ দিয়ে আজ মাঠে গড়াবে বিপিএলের
পঞ্চম আসর। এরই মধ্যে সাতটি দলের হয়ে
বিপিএলে অংশ নিতে দেশের এবং বিদেশের
সেরা সব ক্রিকেটারের যেন মেলা বসেছে
সিলেটে। পুণ্যভুমি সিলেট এখন যেন
ক্রিকেটের ভুমি। এমনিতেই সিলেট
ক্রিকেটের অন্যতম উর্বর ভূমি। আর দেশের
ক্রিকেটের সে উর্বর ভূমিতে আজ মাঠে
গড়াচ্ছে বিপিএলের পঞ্চম আসর। বিপিএলের
আগের চারটি আসর বসেছিল রাজধানী ঢাকা
ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। ঢাকার শেরে
বাংলা স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের জহুর
আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সীমাবদ্ধ ছিল
আগের চারটি বিপিএলের খেলাসমূহ।
বিপিএলের আগের আসরগুলোতে বর্ণাঢ্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও
এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাদ
দেওয়া হয়েছে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য।
ফলে একেবারে সাদামাটাভাবে মাঠে
গড়াচ্ছে এবারের বিপিএল। তবে উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানের আকর্ষণটা না থাকলেও মাঠের
লড়াইয়ের আকর্ষণ কিন্তু ক্রমেই বাড়ছে
বিপিএলে। আর সে কারণেই কিনা বিপিএলে
ভিড় জমে তারকাদের। যদিও ভারতের
আইপিএলের মত অত বেশি সংখ্যার শীর্ষ ও
বিশ্ব তারকার সমারোহ নেই বিপিএলে
তারপরও যারা আছেন তারা সবাই বিশ্ব
তারকা। বিপিএলেও ভারত এবং
অস্ট্র্রেলিয়া ছাড়া সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের
নামি–দামি তারকার মিলন মেলা বসেছে।
এবারের আসরে ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন
ম্যাককুলাম, কুমারা সাঙ্গাকারা, শহীদ
আফ্রিদি, লাসিথ মালিঙ্গা, সুনিল নারিন,
কিয়েরন পোলার্ড, ড্যারেন স্যামি, লুক রাইট,
রবি বোপারা, হাসান আলি, সরফরাজ আহমেদ,
মোহাম্মদ হাফিজ, ফখর জামান আর মোহাম্মদ
আমিরের মত তারকারা থাকছে এবারের
আসরে। আর সে সাথে দেশের সব সেরা
তারকারাতো থাকছেই। সব মিলিয়ে জমজমাট
লড়াই হবে এবারের বিপিএলে তেমনটি বলাই
যায়। এবারের আসরে যে সাতটি দল অংশ
নিচ্ছে তারা হলো, ঢাকা ডাইনামাইটস,
চিটাগাং ভাইকিংস, কুমিল্লা
ভিক্টোরিয়ান্স, রাজশাহী কিংস, খুলনা
টাইটান্স, রংপুর রাউডার্স এবং সিলেট
সিক্সার্স। আর এই সাত দলের হয়ে খেলছে
বিশ্বের সেরা সব তারকারা। প্রথম দিনে দুটি
খেলা অনুষ্ঠিত হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে
ঢাকা ডাইনামাইটসের প্রতিপ স্বাগতিক
সিলেট সিক্সার্স। আর দিনের দ্বিতীয়
ম্যাচে গত আসরের রানার্স আপ রাজশাহী
কিংস খেলবে রংপুর রইডার্সের বিপক্ষে।
বর্তমান বিশ্বে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট মানে
আনন্দ আর বিনোদনের এক পরিপূর্ণ প্যাকেজ।
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট মানে চার আর
ছক্কার ফুলঝুরি। আর সে চার–ছক্কার
উম্মাদনা দেখতে দর্শকরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ে
মাঠে। আইসিসির পরিবর্তিত নিয়ম, প্রযুক্তির
নতুন ছোঁয়া, দুটি দলের নতুন মালিকানা, আর
বিশ্ব তারকাদের সরব উপস্থিতি সব মিলিয়ে
নতুন এক আবহে শুরু হচ্ছে আইপিএলের পঞ্চম
আসর। বিপিএলের সিলেট পর্ব চলবে পাঁচ দিন।
তবে খেলা হবে ৪ দিন। আজ ও আগামীকাল
দু’দিন টানা খেলার পর ৬ নভেম্বর বিশ্রাম। ৮
নভেম্বর রাতেই শেষ হবে বিপিএলের সিলেট
পর্ব। এরপর বিপিএল পাড়ি জমাবে ঢাকায়। ১১
নভেম্বর শুরু হবে বিপিএলের ঢাকা পর্ব। চলবে
২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর বিপিএল চলে আসবে
চট্টগ্রামে। বন্দর নগরীতে খেলা শুরু ২৪
নভেম্বর। ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করে
বিপিএল শেষ উত্তেজনার জন্য আবার ফিরবে
ঢাকায়। আর ফিরতি পর্বে ঢাকায় ১২
ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সাত দল,
তিনটি ভেন্যু। ৩৯ দিন আর ৪৬টি ম্যাচ। আর
সবশেষ একটি মাত্র ট্রফি। সে ট্রফি কার
হাতে শোভা পাবে সেটা জানতে আপাতত
অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর
পর্যন্ত।

শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

এ,কে,আজাদ♥♥♥♥বাস্তবতা বড়ই কঠিন♥♥♥♥

https://facebook.com/akakishadhin.akakishadhin.com
বাস্তবতা বড়ই কঠিন
লেখা জমা দিয়েছেন ২১ অক্টবর, ২০১৭ লিখেছেন,এ,কে,আজাদ


মানুষকে আপন ভেবে লাভ কি,

কাউকে হাঁসালে ভাবে পাগল,!

কাঁদালে ভাবে নিষ্টুর,

ঘনিষ্ট হলে ভাবে খারাপ মনোভাব..!!



হারিয়ে গেলে ভাবে বেইমান,

তাই একা থাকাই ভালো……!!!!


বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭

Azadbd24.com: Take a look at why educators are inhuman because educators are inhuman.

Azadbd25.com: Take a look at why educators are inhuman because educators are inhuman Https://facebook.com/akakishadhin.akakishadhin.com

(শিক্ষিতরাও অমানুষ) কেনো শিক্ষিতরা অমানুষ হয়েছে তা এক নজরে দেখে নিন।

https://azadbd24.blogsopt.com

আমি মো: এ,কে,আজাদ, আমার কালজয়ী উপন্যাস (এ আবার কেমন মানুষ) থেকে নেওয়া, (কিছু খন্ড)
(শিক্ষিতরাও অমানুষ)

★★★ আজকাল আমাদের সমাজে নানা রকমের পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। রকমারি এসব পণ্যের সাথে নানা কিছু বিনামূল্যেও দেয়া হয়। ফলে পন্যের পসার কতোটা বাড়ে জানি না- তবে বিনামূল্যের বিচরণে বিনা মানে নানা কিছু ঢুকে পড়ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে। সে ঢুকুক! আপত্তি নেই। অনেকেরই হয়তো আপত্তি আছে, থাকবেও- কারণ গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্ন মত থাকতেই পারে এবং তা প্রকাশেও কোনো বাধা দেখি না।
কিন্তু এ পণ্যের সমাহারে একটা বিষয় বেশ খটকা ঘটছে। এতোদিন বিষয়টা নিয়ে নানা জনে নানা কথা বলেছেন, কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে অনেক সেমিনার সিম্পোজিয়াম করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উল্টো অনেককেই বিষয়গুলো নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করেছি।
কিন্তু এবার সলতে পুড়ে নিজের শরীরে আগুন লাগছে। বার্ন ইউনিটের ডাক্তার জানিয়েছেন- পুড়ে গেছে অধিকাংশ অঞ্চল, তবুও আমাদের হুঁশ হয়েনি। কারণ যা পুড়েছে তার পুরোটাই আমাদের বিবেক; বিবেক পুড়লে আমাদের তো কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু এখনো যদি সচেতন না হোন- তবে কিন্তু আসছে দিন বেশ খারাপ। এতটুকু নিস্তার পাবার জো নেই।
বিষয়টা কী? একটু খোলাসা করেই বলি। শিক্ষা। নিঃসন্দেহে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য চাহিদা। এতোটাই অপরিহার্য যে- শিক্ষার জন্য আমরা সুদূর চীন দেশে তো যাই-ই, কখনো কখনো নিজের দেশে থেকেই চীন দেশের সমান শিক্ষাব্যয় করে থাকি। সন্তান জন্ম নেবার পরই- বাবা মা অস্থির হয়ে যান- কোন স্কুলে পড়াবেন, ইঞ্জিনিয়ার না ডাক্তার হবেন তারপর কী হবেন- ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই সন্তানদের নিয়ে চলে বাবা-মায়ের জোর প্রচারণা। কিন্তু আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে- এই জোর প্রচারণার পর সন্তান আসলে 
কতোদূর এগোয়? কয়েন কদম?
প্রকৌশলি, চিকিৎসক, বিবিএ, এমবিএ ডিগ্রিধারী কিংবা সরকারি উচ্চপদস্থ চাকুরে- কিন্তু তারপর কী? এরপর কী আর কিছুই লাগে না। সনদই যথেষ্ঠ? একজন ঘুষখোর প্রকৌশলি নিয়ে মায়ের এতো গর্ব? কসাই চিকিৎসককে নিয়ে বাবা কী সুখ পান? কিংবা অপোগণ্ড সরকারি কর্মকর্তা- যে নিজের সুখের বিনিময়ে (?) নিজের দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে, তার কাছে কী প্রত্যাশা পরিবারের?
ভালো রেজাল্ট এখন সমাজের জন্য অপরিহার্য। আমি মানলাম- কিন্তু তারপর? তারপর কী হবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা ম্যাডামকে নির্যাতন করা পিশাচ হাসান সাইদ- সে ও তো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা। ভালো ছাত্র না হলে তো সেখানে ভর্তি হওয়া যায় না। তাহলে এই ভালো ছাত্র কী করলো? এরকম নির্যাতন তো আমাদের দেশের শিক্ষিত বা তথাকথিত অশিক্ষিত ত্রিচক্রযান চালকেরাও করেন না। অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা- যাদের হাতে ন্যস্ত ছিলো দেশের ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্যকে আরো সুদৃঢ় করে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখা- তারা তো টেন্ডারের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। হলে হলে অবৈধ সিট বাণিজ্য করে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা না-ই বা বললাম। কিন্তু তাদের করুণ দশাও আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হতাশাব্যঞ্জক।
অথচ- যদি আগের ইতিহাস পড়ি; কী সুন্দরই না ছিলো সেই দিনগুলো। সেই ষাটের কিংবা সত্তর দশকের শিক্ষার্থীরা। যাদের সামনে হাজার প্রতিবন্ধকতা ছিলো, কিন্তু তারপরেও তারা স্বার্থান্বেষী হয়ে মনুষ্যত্বটাকে জলাঞ্জলি দেয়নি। আর এখন? আমরা তো এখনকার শিক্ষার্থী; আমাদের মনুষ্যত্ব কোথায়?
নেই- বিক্রি করে এসেছি। ছেলেবেলা শুনেছি, মনুষ্যত্ব থাকলে নাকি অনেক টাকার মালিক হওয়া যায় না। তাই সেটাকে নিয়ে আর ভার বাড়াইনি। মাঝে মাঝে ভাবি- এমন হলো কেনো? অনেক ভেবে ঘুরে ফিরে একটা চিন্তাতেই এসে মন আটকে যায়। মনে হয় সেই কথাটা ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রেই স্বশিক্ষিত’। তাহলে আমাদের সুশিক্ষা নাই? আমার মনে হয় নাই; এবং এই না থাকার জন্য প্রথমত আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ি, দ্বিতীয়ত দায়ি আমরা এবং আমাদের পরিবার। এখন শিক্ষা বলতে যা বোঝানো হয়- তার মধ্যে কোনো নৈতিকতা বোধ থাকে না। ছেলেবেলা থেকেই একজন শিক্ষার্থী তার সহপাঠীকে পরীক্ষা হলে ভুল উত্তরটি দিয়ে আসে, এটা করে মূলত হিংসা বশত- ভাবে ‘আমার চেয়ে নম্বর সে কম পাবে’। তারপর পরীক্ষার খাতায় থাকে মায়েদের নির্লজ্জ নম্বর বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। প্রশ্ন ফাঁস করে পরীক্ষা দেয়া তো এখন শহরের নামকরা স্কুলগুলোতে পানিভাত, আর সেই সাথে মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায়- আহা, সেখানে প্রশ্ন তো আউটই থাকে। তার মানে হলো- অনৈতিকতা, মিথ্যা বলা আমাদের শৈশবের মজ্জাগত। বুদ্ধদেব বসু তাঁর শৈশবে পেয়েছিলেন ‘কমেডি অব এররস’ এর বই; আর আমরা শৈশবে লাভ করি মিথ্যা, দুর্নীতি আর শয়তানির শিক্ষা। ওটাও এখন শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। কিচ্ছু করার নেই।
তাহলে শিক্ষাটা দাঁড়ালো সনদ নির্ভর। বিশ্বের আর কোনো দেশে শিক্ষার এই সংজ্ঞা নেই। শিক্ষার সঙ্গে যে সংস্কৃতি এবং মানবিকতার একটা শক্ত যোগসূত্র আছে, সেটা আমাদের দেশের কেউ আর মানতে চায় না। একমাত্র আমাদের দেশেই সাহিত্য-দর্শন-ইতিহাস-বিজ্ঞান মানে ‘সিলেবাসের বাইরের বই’ কিংবা ‘আউট বই’। অথচ এসবের অভাবেই পুরো জাতিটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উচ্ছন্নে যাচ্ছে আর সেই সাথে আমাদের সভ্যতাকে গিলে খাচ্ছে শয়তানের হিংস্রতা। আমরা এর কোনো প্রতিকার আশা করি না; কেবল আহ! উহ! শব্দ করেই আমাদের দিনযাপন হয়।
আমাদের দেশে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তারা আক্ষরিক অর্থে কেবল সনদের জোরেই টিকে থাকে। নিজস্ব বিবেক বা বোধ মর্যাদা তাদের নেই। এই না থাকার জন্য শিক্ষার্থীরা দায়ি; কিন্তু তার চেয়ে বেশি দায়ি এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কাঠামো। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও এখন হয় মুদি দোকানদারের সেলসম্যান (মানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট টাইম খ্যাপ মারা) কিংবা রাজনৈতিক বচন বাজ (মানে লেজুড়বৃত্তি রাজনৈতিক কর্মকান্ড)। নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ শিক্ষকের থাকতেই পারে, চাইলে তাঁরা রাজনীতিও করতে পারেন- কিন্তু কেনো তাঁরা তাঁদের শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক বোধের জন্ম দিচ্ছেন না? তাঁদের কীসের ভয়? কীসের লজ্জা? নাকি তাঁদের নিজেদের বিবেক আর নৈতিকতাবোধ নেই তাই কীভাবে শিক্ষার্থীর মাঝে সেই শিক্ষা জাগাতে হয়- সেটা তাঁরা জানেন না।
আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়- বুয়েটের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীদের কখনো প্রেমের গল্প বলেন কিনা, কিংবা কোনো মহৎ সাহিত্যের কথা বলেন কিনা। কখনো বলেন কিনা কোনো অপূর্ব কবিতার কথা। একাত্তরের কথা, কিংবা বাঙালির জাতীয়তাবাদ উন্মেষের সংগ্রামের সেই গৌরবগাঁথার কথা। যদি বলতেন, যদি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতেন নিজস্ব হৃদয় শক্তি দিয়ে জেগে ওঠার- তাহলে তো এমন ঘটনা ঘটতো না। এমন নিষ্ঠুরতা এমন হীন স্বার্থপরতা শিক্ষার্থীদের মাঝে থাকতো না।
রুমানা ম্যাডাম যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন- এ রকম নির্যাতন ঘরে ঘরে ঘটছে। এখনো আমাদের দেশের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন নয়; আর হলেই বা কী- অর্থনৈতিক স্বাধীনতাই তো মূল কথা নয়- মূল কথা হলো আত্মার স্বাধীনতা। যেখানে আত্মা বন্দী দাসত্বের শিকলে সেখানে সবই অর্থহীন। একেবারেই নাজুক। আমি মনে করি এসব ঘটনা সমাজের প্রতি স্তরেই ঘটছে এবং কোনো স্তরেই এর কোনো প্রতিকার ঘটছে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষার অভাবই যদি এর প্রধান কারণ হয়- তাহলে পিশাচ হাসান সাইদ তো শিক্ষিত- লেবাস আর সনদ তো আছে; সে কেনো এমন করলো? তাহলে তাকে কী শিক্ষা দেয়া হলো?
আমি তো মনে করি বাঙলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এখন জরুরি বৈঠকে বসা উচিত। তাঁরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমুচ্ছেন কীভাবে? তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী শিক্ষা পাচ্ছে- যে তারা এমন করে পৈশাচিক কাজ সহজেই করতে পারে? তাহলে তো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় গলদ আছে বলে মনে হয়। না হলে শিক্ষিত সমাজ কেমন শিক্ষা নেয়?
শিক্ষা এখন পণ্য হয়ে গেছে; হয়তো চাহিদার চেয়ে তার সরবরাহও কমে গেছে- তাই পণ্যের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে ফাঁকিবাজি আর ভুয়া কিসিমের ফরমালিন। যা খুশি তাই, যেভাবে খুশি সেভাবে এই পণ্য গছানো হচ্ছে আমাদের হাতে। হায় রে- আমরা হতে চেয়েছিলাম উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন, আর নৈতিকতা বোধসম্পন্ন উঁচু মানের মানুষ- আর আমাদের শিক্ষা আমাদের বানিয়ে দিলো হাবিয়া স্তরের পিশাচ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সময় কেবল জ্ঞান-বিজ্ঞানই নয়; সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তীর্থকেন্দ্র বলা হতো। আর এখন- পুরোটাই হয়ে গেছে বাণিজ্যের তীর্থকেন্দ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হয়- কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা আয়োজন করে না, করে ছাত্রলীগের (বা ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রদলের) মদদে একপাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান- যাদের কোনো সাংস্কৃতিক জ্ঞান নেই। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হয় না। হয় কেবল বিসিএস এর প্রতিযোগিতা, লাইব্রেরিগুলোতে বসার জায়গা থাকে না; কিন্তু লাইব্রেরিয়ান নাই- কারণ বই ইস্যু করতে হয় না। কেউ লাইব্রেরির বই পড়ে না, সবাই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স আর বিসিএস পুস্তকে নিমজ্জিত কীট। আর বুয়েটের লাইব্রেরিতে তো টিউশনিও করানো হয়। হায় রে মেধাবীরা, তোরাই কিনা দেশের ভবিষ্যত! ধিক। এমন দেশের ভবিষ্যত তো কানা, চিরন্তন অন্ধ- অন্ধকারের চেয়েও গভীর অন্ধকার।
রুমানা ম্যাডামের উপর যা ঘটলো- তাতেই প্রমাণিত হয়, সনদ দিয়েই শিক্ষার মাপজোক করা যায় না। শিক্ষা হলো প্রকৃত মানবতার এবং ভেতরের নিজস্বতার উন্মোচন। এই উন্মোচন যদি না ঘটে- নিজস্ব সংস্কৃতির আলোকে, সাহিত্যের আলোকে- চেতনা আর ঐতিহ্যের আলোকে যদি আমরা না জাগি তাহলে আমাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ নয়, অর্ধ-সম্পূর্ণও নয়- একেবারেই অসম্পূর্ণ। আমাদের মনের মধ্যে তাই সংস্কৃতির আলো ফেলতে হবে, নিরন্তর প্রবহমানতার আলো- একেবারে সৃষ্টির প্রথম সূর্যালোকের মতো- যে আলো জেগে উঠেছিল চর্যাপদের প্রথম অক্ষরে, সান্ধ্য-ভাষার ভাঁজে ভাঁজে। যে আলো নানা পথ আর গতির প্রবাহ ঘুরে অবশেষে আরও ঋদ্ধ হবার জন্যে এসে দাঁড়ালো বঙ্গ সমতটের বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গনে। সেই আলো যদি গ্রহণ করতে না পারি, তাতে যদি নিজেকে উজ্জ্বল করতে না পারি তাহলে এমন শিক্ষিত হবার দরকার নেই। এমন শিক্ষিতদের মুখে থু দিতেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম লজ্জা পাবে। এ বিষয়গুলো যদি না দেখেন- তাহলে সময় আর বেশি নেই; মানুষের তালিকার শেষের দিকে তো চলেই এসেছি, এখন হয়তো পশুরাও তাদের তালিকায় আমাদের মতো শিক্ষিতদের (তথাকথিত) আর রাখতে চাইবে না।

উৎসর্গ আমার বাবা মা,;;;;;;;;;;;;;;;;;;;
 কারোন, অনারাদের সন্তান গুলোকে দেশ সেবায় নিয়োজিতো করেছেন। দুনাজপরেব বুকে একটি মাত্র পরিবার আছে।
দেশের জন্য কাজকরার জন্য আমাদেরকে



সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

স্বাধীন আহম্মেদ★★ ঘটনা প্রসঙ্গে যা বললেন হাছান মাহমুদ

https://facebook.com/akakishadhin.akakishadhin.com
ঘটনা প্রসঙ্গে যা বললেন হাছান মাহমুদ

আজাদী প্রতিবেদন ।।

রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়ি বহরে হামলাকারীরা স্থানীয় সাংসদ হাছান মাহমুদের ‘অনুগত’ বলে যে অভিযোগ বিএনপি করেছে তা অস্বীকার করেছেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি নেতাদের গাড়ির ধাক্কায় দুজন আহত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘প্রথমত এই ঘটনা যখন ঘটে তখন আমি বিমানে ছিলাম। বিমান থেকে নেমেই শুনেছি তাদের গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে।



এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত ঘটনা।’

এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার সমস্ত লোকই তো আমার ভোটার। এখানে একটি প্রশ্ন আছে আমার। প্রথমত তারা পাহাড় ধস ঘটনার পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার ছয়দিন পর এসেছেন। তাছাড়া ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার ওসি তাদেরকে বলেছেন, কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে রাঙামাটি পৌঁছে দিবেন। কিন্তু তারা ফেরত গেছেন। তাই আমার জিজ্ঞাসা, তারা কি ত্রাণ দিতে ,এসেছেন, নাকি ঘটনা ঘটাতে এসেছেন।’ হামলার ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী-যুবলীগের কেউ দায়ী নয় বলেও জানান তিনি।

মাটির ঝুঁড়ি মাথায় হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়ায়

এদিকে গতকাল বিকালে ড. হাছান মাহমুদকে রাঙ্গুনিয়ায় মাটির ঝুড়ি মাথায় নেতাকর্মীদের সাথে রাস্তা মেরামত কাজে দেখা গেছে।

আমাদের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানান, উপজেলার পৌর এলাকায় নিজেই মাটি কেটে মাথায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও ধসে যাওয়া অবকাঠামো স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ড. হাছান মাহমুদ। পৌরসভার ৫নং ওয়াডের্র লক্ষ্মীর খিল গুচ্ছগ্রামের সড়ক মেরামতের মাধ্যমে এই কাজের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমার এলাকায় পাহাড় ধসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আটটি ইউনিয়নের ৪৯টি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এসব রাস্তা মেরামতের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এই মেরামত কাজে যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সব কিছু মেরামত করা সম্ভব নয়। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুততার সাথে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ শুরু করায় সাধারণ মানুষ দুর্ভো্‌গ থেকে মুক্তি পাবে। তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলের সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করবে।

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৭

(পার্বতীপুর, দিনাজপুর আসিক মাহমুদ)দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

https://facebook.com/akakishadhin.akakishadhin.comবড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় ফাটল, গ্রামবাসীরা আতঙ্কে

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

বড়পুকুরিয়া হামিদপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার বাঁশপুকুর, বৌদ্যনাথপুরম, শীবকৃষ্ণপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকা দেবেও যাচ্ছে।

খনি এলাকায় জীবন পরিবেশ ও রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. মশিউর রহমান বুলবুল হামিদপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশপুকুর, বৌদ্দনাথপুরম, শীবকৃষ্ণপুর এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি খনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ৫ বছর আগে সরকার ওই এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম কয়লাখনির মধ্যে পড়ে যায়। তবে গ্রামের কিছু অংশ অধিগ্রহণ করা হয়নি। অধিগ্রহণ করা এলাকা থেকে কয়লা তোলার কারণে গ্রামগুলোর আবাদি জমি, রাস্তাঘাট, বাসাবাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। গ্রামের মানুষদের এখন আতঙ্কে দিন কাটছে। অনেকে রাতে নিজ বাড়িতে না থেকে অন্যের এলাকায় গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাত যাপন করছেন। ইতিপূর্বে এমন ঘটনা ওই এলাকায় হওয়ার পরও এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছেন। সেই আন্দোলনের ফলে সরকার এলাকার মানুষকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। তবে সেই ক্ষতিপূরণ নিয়ে এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট নয়।

বলা হয়েছিল, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের জন্য নতুন করে কোল মাইনিং বিগ সিটি টাউন গড়ে তোলা হবে। যা দেখে এলাকার মানুষ খুশি হবে।

এ দিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এর প্রকৌশলী হাবীব উদ্দিন জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কি পরিমাণ এলাকার ক্ষতি হচ্ছে কমিটি তা তদন্ত করে দেখবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে পূর্বের ন্যায় তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।